এন্ট্রি লেভেল জব ইন্টারভিউ এর ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করা উচিত নয় ।

পড়াশোনা শেষ, চাকরির জন্য হন্য হয়ে ঘোরাফেরা করছেন। সারাদিন নেটের সামনে। একটার পর একটা এপ্লিকেশন করে যাচ্ছেন অনলাইনে, যেটা আপনার সাথে রিলেভেন্ট সেটাও করছেন, যেটা রিলেভেন্ট না সেটাও.. এপ্লাই অনলাইন বাটনটা দেখেই সিভি দিয়ে দিলেন। যেহেতু খরচ লাগেনা।   হঠাৎ কল এলো,,, কোন এমএনসি থেকে….স্বপ্নের কল.. আপনি কল রিসিভ করলেন;

এম এন সিঃ হ্যালো; আপনি কি জনাব শরিফ (ছদ্দ নাম)?

আপনিঃ জ্বি আমি শরিফ বলছি.. কে বলছেন?

এম এন সিঃ আমি ট্রিট ইন্টারন্যাশনাল থেকে সাহেদ (ছদ্দ নাম) বলছি।

আপনিঃ ট্রি……ট ইন্টারন্যাশনাল.. (আমতা আমতা করে চেষ্টা করেও এই কোম্পানিকে মনে করতে পারলেন না) অতঃপর বললেন, আচ্ছা বলুন;

এম এন সিঃ আপনি আমাদের এখানে জবের জন্য এপ্লিকেশন করেছিলেন..

আপনিঃ জ্বি জ্বি স্যার……

এম এন সিঃ তো আপনি কি ইন্টারভিউ দিতে ইচ্ছুক..?

আপনিঃ জ্বি জ্বি.. স্যার পোষ্টটা কি ছিলো যেনো?

এম এন সিঃ কিছুক্ষন চুপ থেকে বললেন.. ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি..

আপনিঃ ও আচ্ছা আচ্ছা! ঠিক আছে।

এম এন সিঃ তাহলে আগামী ২৫ তারিখ সকাল ১০ টায় আপনি আসছেন।

আপনিঃ জ্বি জ্বি.. স্যার ঠিকানাটা একটু দেন!! কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকেই জানতে চায় স্যার স্যালারীটা কত হবে? স্যার কাজটা কি? উত্তরে যদি বলে মার্কেটিং, তবে আপনি আশে পাশেও নাই। কারণ মার্কেটিং আপনার ভয়। অথচ মার্কেটিং মেজর নিয়ে এমবিএ করেছেন। যাইহোক,তারা আপনাকে ঠিকানাও দিলো। আপনি ২৫ তারিখ ইন্টারভিউ দিতে গেলেন;

এই ট্রিট ইন্টারন্যাশনালটা আসলে কি কোম্পানি, তাদের কাজ কি, তাদের প্রোডাক্ট কি, বর্তমানে কোন দেশে তাদের কি অবস্থান, কিছুই জানার প্রয়োজন মনে করলেন না। গুগলে একদিন সার্চ দিলেই কিন্তু তাদের ১৪ গুষ্টির ডাটা চলে আসতো, যেহেতু এম এন সি।

এখানে যে আপনি জব পাবেন না এটা শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারেন। কারণ আপনাকে যখন কল করা হয়েছিলো, আপনার এটিটিউড এমন ছন্নছাড়া ছিলো যে, ফার্স্ট ইম্প্রেশনেই আপনি শেষ.. এর কারণ কি

# ট্রিট ইন্টারন্যাশনাল আপনি ভালোভাবে চেনেন নাই.. আমতা আমতা করে চেনার চেষ্টা করেছেন। অথচ এটা একটা রিনাউন্ড কোম্পানি এবং অনেকের স্বপ্নের কোম্পানি। কিন্তু আপনি স্রেফ কোম্পানিটাকেই চিনতে পারলেন না। কাজেই আপনি হয় চাকরির ব্যাপারে সিরিয়াস না, নয়ত আপনার মেমোরি ভালোনা। আপনি কোন পোষ্টে এপ্লাই করেছেন সেটাও জানেন না।

উপরোক্ত কারণ গুলোই এই কোম্পানিতে আপনার চাকরি না পাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। আপনি হয়ত ভাবছেন, এটা এমন আর কি বড় ব্যাপার? অবশ্যই বড়। কারণ এমএনসি যখন কাউকে কল করে, তখন শর্টলিষ্ট ধরেই করে এবং কল করার সময়ই ক্যান্ডিডেটের ব্যাপারে তাদের অনেকটা ধারণা হয়ে যায়।

আপনার কি করা উচিত ছিলো তাহলে?

যদি চাকরি আপনার নিতান্তই প্রয়োজন থাকে এবং ভালো কোম্পানি খুঁজেন, তবে, প্রতিটি সিভি পাঠানোর পর সেই কোম্পানির বিষয়ে আপনার মিনিমাম স্টাডি করা, যেন কল আসলে আপনি স্মার্টলি কল ফেস করতে পারেন। প্রয়োজনে নোট রাখেন, কবে কখন, কোথায় সিভি দিয়েছেন। ধরেন ট্রিট ইন্টারন্যাশনাল থেকেই আপনাকে কল দিয়েছে। আপনি এই কোম্পানির ব্যাপারে কিছুই জানেন না, কবে, কোন পোষ্টে এপ্লিক্যাশন করেছেন মনে নেই, সেই ক্ষেত্রে আপনি উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে যা করতে পারতেন;

প্রথমেই কোম্পানির নাম শোনার পর জাস্ট বলেদিন, জি স্যার, আমি সিভি পাঠিয়েছিলাম এবং অপেক্ষা করছিলাম কলের জন্য। ধন্যবাদ দিন। হেসে হেসে কথা বলুন। তারপর জেনে নিন কবে ইন্টারভিউ। কলের জন্য আবারো ধন্যবাদ দিন। আপনার সিভিতে কিন্তু ওরা আলাদা মার্কিং করবে তখনই। ঠিকানা চাওয়ার দরকার নেই। গুগল করে ঠিকানা বের করে নিন। বিডি জবস এ গিয়ে কোম্পানির নাম সার্চ দিয়ে বের করুন, কোন পোষ্টে সার্কুলার করেছেন দেখে নিন।

কোম্পানির ব্যাপারে স্টাডি করুন পর্যাপ্ত; তারপর ইন্টারভিউ দিতে যান। লোকাল কোম্পানি অথবা এমএনসি, যেখানেই ইন্টারভিউ দেন, সেই কোম্পানির বিষয়ে ভালোভাবে স্টাডি করুন। আপনার কাজ অর্ধেক হয়ে যাবে।

কোম্পানির ব্যাপারে আপনার পর্যাপ্ত যানাশোনা আছে বলেই ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার এমন এটিটিউড দেখানো ঠিক নয়, যেটাতে আপনাকে ওভার কনফিডেন্ট দেখায়। এটা ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হয়। এই আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো যে আপনি ভালো করবেন, কিন্তু এরকম আত্মবিশ্বাস থাকা ভালোনা যে, আপনার চাকরি হবেই হবে। এটা ভয়ংকর। কারণ আপনার চেয়েও অনেক যোগ্য ক্যান্ডিডেট লাইনে অপেক্ষা করছে হয়ত। এরকম আত্নবিশ্বাস পরিহার করুন।

কোন প্রশ্নের উত্তর না পারলে স্রেফ ইগনোর করে যান। এতে আপনার স্মার্টনেস প্রকাশ পাবে। আমতা আমতা করে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা মানে নিজের জড়তা ফুটিয়ে তোলা। Just, দুঃখ প্রকাশ করে বলে দিন, আপনি পারছেন না।

আপনি যেখানেই ইন্টারভিউ দেন না কেন, সাব্জেক্ট অথবা চাকরির সাথে irrelevant প্রশ্ন আপনাকে ফেস করতেই হবে। উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করুন। না পারলে সুন্দর করে বলে সরি দিন। আপনাকে পারতেই হবে এমন কথা নেই।

সাক্ষাৎকারে যদি ইংরেজীতে প্রশ্নের মুখোমুখি হোন, এবং আপনি ইংরেজীতে উত্তর দিতে না পারলে, পারমিশন নিয়ে বাংলায় উত্তর দিন। পারমিশন না নিয়ে কখনোই বাংলায় উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবেন না এবং বোর্ডের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকবেন না। প্রশ্নও যদি না বুঝেন, অনুরোধ করুন, বাংলায় বলতে। স্মার্টলি বলুন। স্মার্টনেস কিসে প্রকাশ পায়? সুন্দর চেহারা? নাকি সুন্দর চাল চলনে? স্মার্টনেস প্রকাশ পায় কথাবার্তায়। সুতরাং কথা বার্তায় স্মার্ট হোন।  চেহারা কোন ব্যাপারই না।

যেকোন চাকরির এপ্লিকেশনেই কভার লেটার একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। একটি জিনিশ হয়ত অনেকেরই জানা নেই, বিডি জবস সিস্টেমে এপ্লাই অনলাইন বাটনে ক্লিক করে সিভি পাঠানোর চেয়ে কোম্পানির ইমেইলে এড্ড্রেসে সরাসরি সিভি পাঠানো অনেক ইফেক্টিভ। তবে সেটা যদি সার্কুলারের নীচে কোম্পানির ইমেইল এড্ড্রেস দেয়া থাকে। ইমেইলে পাঠানো সিভিগুলো সাধারণত আগে শর্ট আউট হয়। সিভি ব্যাংকের সিভিগুলো খুব কম কোম্পানিই আছে যারা দেখে। আর দেখলেও প্রথম ২/৩ শ সিভি হয়ত দেখে। পরেরগুলো খুলেও দেখেনা।

কাজেই এপ্লিকেশন করার সময় যদি পারেন কষ্ট করে সুন্দর একটি কভার লেটার লিখে কোম্পানির ইমেইল এড্ড্রেসে পাঠিয়ে দিন।

প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে সিভি লেখানো দোষের কিছু নয়। কারণ সবার দারা সব কিছু হয়না। আমার ধারণা একজন ফ্রেশার কখনোই তার সিভি গুছিয়ে লিখতে পারবেনা। হয় তার ইন্টারনেট থেকে হেল্প নিতে হবে, নয়তো প্রফেশনাল কারো কাছ থেকে। তবে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে, কপি পেষ্ট যেন না হয় এবং সিভিতে কি আছে সেই জিনিশগুলো আপনার পরিপুর্ণভাবে জানা উচিত। নইলে ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *