মাল্টিটাস্কিং আপনার কাজের প্রোডাক্টিভিটি নষ্ট করে

মাল্টি টাস্কিং আসলে কি?

সহজ বাংলায় বললে ডিজিটাল মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন কিছু কাজ একই সাথে করা। আপনি যদি এই মুহুর্তে কম্পিউটারে বসে থাকেন, তবে লক্ষ্য করুন আপনার টাস্কবারে কয়টি উইন্ডো একটিভ আছে আর কয়টিতে আপনি কাজ করছেন। যদি এটা একাধিক হয়, তবে আপনি এই মুহুর্তে মাল্টি টাস্কিং করছেন। আমরা এখন ডিজিটাল মাধ্যমের স্বর্ণযুগে অবস্থান করছি। একই সময়ে একাধিক বিষয় শিখতে চাই, করতে চাই। প্রতিযোগিতা নিজের সাথেই। কত তাড়াতাড়ি শিখবো, সব সময় এই Tendency থাকে। অমুক আমার চেয়ে বেশী জানে, তমুক বেশী জানে, এইসব ভেবে আমরা Complexion এ ভুগি, যা স্বাস্থ্য এবং মন দুইটার জন্যই চরম খারাপ। তাই তরিঘরি করে একই সাথে ফটোশপ, ওয়ার্ড, ফেসবুক, টুইটার, সব কিছু শিখে ফেলতে চাই। বাংলাদেশে এই শতাব্দীর প্রথম দিকেও যদি কোন MNC’S অথবা দেশী কোন বড় কোম্পানি Recruitment এর জন্য সার্কুলার দিতো, তবে অন্যতম কন্ডিশন থাকতো, ক্যান্ডিডেটকে মাল্টি টাস্কিং এ পারদর্শী হতে হবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গবেষণায়য় দেখা গেছে, মাল্টি টাস্কিং কাজের গতি মারাত্মকভাবে নষ্ট করে এবং এটা প্রচন্ডভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এখন পৃথিবীর বড় কোন কোম্পানিই মাল্টি টাস্কিং এ গুরুত্ব না দিয়ে বরং তারা Quick Learner প্রতি অধিক গুরুত্বআরোপ করে।

এখন নিজেকে প্রশ্ন করুন; আপনি কি মাল্টি টাস্কিং করেন? তাহলে এই অভ্যাস আজ থেকেই বাদ দেয়ার চেষ্টা করুন। দিন রাত মাল্টি টাস্কিং করার ফলে দিনের পর দিন আপনার কাজের মানের অবনতি হচ্ছে, কাজের মান কমে গেলে শরীর ও মনের হাজারটা সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং ব্রেনের উপরেও মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়। আমরা সবাই জানি, কোন নির্দিষ্ট সময়ে মন দিয়ে একটি কাজ করা প্রায় অসম্ভব। মাল্টি টাস্কিং এখন জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা এটা জানিনা যে, মাল্টি টাস্কিং করে নিজেদের অজান্তেই আমরা নিজেদের অনেক ক্ষতি করছি।

কাজের ক্ষেত্রে Relaxation টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কম বয়সে মাল্টি টাস্কিং কোন ভাবে ম্যানেজ করা গেলেও বয়সে ভাটির টান ধরলে শরীর, মন বিদ্রোহ করা শুরু করে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে মাল্টি টাস্কিং এ সতর্ক না হলে ব্রেনের কার্যকারীতা কমতে শুরু করে। স্মৃতিশক্তি, কাজের মনোযোগ, এবং আইকিউ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। মোটামুটি একই দক্ষতা সম্পন্ন একদল মাল্টি টাস্কার ও ধীরে-সুস্থে একটি একটি করে কাজ শেষ করেন এমন একদল মানুষকে নিয়ে স্টাডি করে গবেষকরা দেখলেন যে, যারা মাল্টি টাস্কিং করেন, তাদের কিছু বুঝতে ও মনে রাখতে যতোটা সময় লাগছে, অন্যদের লাগছে তারচেয়ে অনেক কম। একসঙ্গে ২/৩ টি কাজ করতে দিয়েও দেখা গেলো তাদের দক্ষতা ও সাধারণত যারা মাল্টি টাস্কিং করেন না তাদের দক্ষতার মধ্যে বিস্তর ফারাক। কারণ হিসেবে গবেষকরা জানালেন, আমাদের ব্রেনের ধর্ম অনুযায়ী, সে একবারে একটি বিষয়েই ভালোভাবে ফোকাস করে। একই সময় একাধিক বিষয়ে ব্রেনকে ফোকাস করাতে গেলে ব্রেনের চিন্তা শক্তির দক্ষতা ধীরেধীরে হ্রাস পেতে থাকে। ফলে অপ্রয়োজনীয় তথ্যর ভীর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিশগুলোকে ফিল্টার করে কাজে লাগানোর প্রসেস স্লো হয়ে যায়। একসময় দেখা যায় কোন কাজেই আপনি মন বসাতে পারছেন না ভালো #মাল্টি টাস্কিং ছাড়া কাজের গতি বাড়াবেন কিভাবে?

আপনি আগে সিদ্ধান্ত নিন কোন কাজটা আপনার বেশি প্রয়োজন। একটি প্রায়োরিটি রিক্যাপ করুন। নিজের ভালোলাগাকে আগে বুঝতে চেষ্টা করুন। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিযোগিতার Tendency থেকে নিজেকে আগে বের করুন। তারপর একটি একটি করে শুরু করুন। সময় চলে গেছে, সময় চলে যাচ্ছে, এইসব ভাবনা দূরে রাখুন। ধরুন আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর আউটসোর্সিং করবেন। প্রতিদিন Social Media Marketing, Email Marketing, SMS Marketing, Youtube Marketing ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিস্তর পড়াশোনা করছেন। তাতে হচ্ছে কি? কিছুই শেখা হচ্ছেনা। মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে, তাইনা? কিন্তু আপনি যদি প্রতিটি বিষয়ের উপর আলাদা ভাবে ৭ দিন অথবা ১৫ দিন অথবা ৩০ দিন সময় দেন, দেখবেন আপনি ঐ বিষয়ের উপর মাষ্টার হয়ে গেছেন! চ্যালেঞ্জ!

মাল্টি টাস্কিং আপনাকে কাজের ক্ষেত্রে একটি কনফিউশনের লাইফ উপহার দেবে। একটি বিষয়ে উদাহরণ দেই। প্রমান করুন মাল্টি টাস্কিং এর কার্যকরীতা। আপনি Adespresso তে যান। এটা ফেসবুক মার্কেটিং এর একটি জনপ্রিয় ওয়েব সাইট। এখান থেকে মার্কেটিং এর এডভান্স লেভেলের যেকোন একটি বিষয় নিন এবং Youtube মার্কেটিং এর উপর একটি বিষয় নিয়ে দুটি বিষয় একই সময়ে ৭ দিন শিখুন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, আপনি কোনটারই ২৫ ভাগও শিখতে পারবেন না। (সংগৃহীত)

সুতরাং কাজের গতি বাড়াতে হলে মাল্টি টাস্কিং পরিহার করতে হবে। ব্রেনকে স্ট্রেস ফ্রি রাখার চেষ্টা করুন। মাল্টি টাস্কিং এর চেয়ে Quick Learning বেশি Effective. চেষ্টা করুন Quick Learner হতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *